রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় অগ্নিসংযোগকারীদের ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। যারা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার (২৬ নভেম্বর) সকালে গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে এ মন্তব্য করেন।
এর আগে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা ২০২৩ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে হস্তান্তর করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, যারা মানুষ পুড়িয়ে মারবে বা গাড়ি, রেল, যানবাহন পোড়াবে বা অগ্নি সংযোগ করবে বা যারা হুকুমদাতা বা অর্থদাতা তাদের বিরুদ্ধে আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। কারণ আমরা যদি ব্যবস্থা না নেই তাহলে জ্বালাও পোড়াও তারা চালাতেই থাকবে।
তিনি বলেন, আমি দেখি অনেকেই বলেন কেন এদের অ্যারেস্ট করা হলো। কিন্তু তারা এটা বলে না এরা অগ্নিসন্ত্রাসী, এরা পুলিশ হত্যা করেছে, মানুষ হত্যা করেছে। আর এখন ডিজিটাল যুগ সাধারণ মানুষই এদের ভিডিও তুলে রাখে। এই সন্ত্রাসীরা একেবারে চিহ্নিত। কাজেই যারাই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা ভাঙচুরে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। মানুষের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, জনগণের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সেটাই আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী করে যাচ্ছে এবং সেটাই করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আশা করি এদের অন্তত শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং তারা এগুলো বন্ধ করবে। আর বন্ধ না করলে যা ব্যবস্থা নেওয়ার সেটা আমাদের নিতেই হবে। এটা হল বাস্তবতা। শুধু দুঃখ লাগে আমাদের ছেলে-মেয়েগুলো তাদের ফাইনাল পরীক্ষাটা ভালোভাবে দিতে পারল না।
শেখ হাসিনা বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর কর্মসূচি সম্পর্কে বলেন, যতক্ষণ তারা সঠিকভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি করেছে ততক্ষণ কিন্তু অসুবিধা ছিল না এবং এতে করে বিএনপি এবং তাদের সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর ভাবমূর্তিও বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডগুলো পরিচালনা করার পর এখন জনগণ থেকে তারা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন।
চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী করে দক্ষ জনশক্তি আমাদের গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা দেশে-বিদেশে যেখানে কাজ করুক না কেন, মাতৃভাষার সঙ্গে তাদের একটি বা দুটি অন্য ভাষা শিখানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে হবে। তাতে সারা বিশ্বে আমাদের কর্মসংস্থানের আরো সুযোগ হবে। আজকাল ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজস্ব ইউনিয়নে বসে অনেকেই বিদেশে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে।
তিনি বলেন, এখন প্রযুক্তির যুগ। প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। সে জন্য তাদের শিক্ষাটাও প্রযুক্তি নির্ভর এবং বহুমুখীকরণ করা দরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৬ সালে তার সরকার শিক্ষার হার পেয়েছিল দেশে ৪৪ শতাংশ। আওয়ামী লীগ সরকার এটি ৬৫ শতাংশে নিয়ে এসেছিল, বিএনপি জামাত সরকার ২০০১ পরবর্তী সময়ে তার সরকারের রেখে যাওয়া শিক্ষার হার ৬৫ শতাংশ থেকে আবার ৪৫ ভাগে নামিয়ে ফেলে। যা সরকার টানা তিন মেয়াদের শাসনে ৭৬.০৮ ভাগে উন্নীত করেছে।
জানুয়ারি মাসের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থাকায় তিনি আশা করেছিলেন নভেম্বরের মধ্যেই স্কুলের পরীক্ষাগুলো শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু বিএনপি’র অবরোধ এবং জ্বালাও-পোড়াও এবং সন্ত্রাসের কারণে সেটি ব্যাহত হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
এবারের পরীক্ষার ফলে মেয়েরা এগিয়ে থাকায় তিনি তাদের অভিনন্দন জানিয়ে ছেলেরাও পিছিয়ে থাকবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কৃতকার্যদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীদের পাঠে আরা মনোনিবেশ করার মাধ্যমে আগামীতে ভাল ফল করার আহবান জানান এবং তাদের এ জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তিরস্কার না করে বরং সমব্যথী হিসেবে পাশে থেকে প্রেরণা জোগানোর জন্যও সংশ্লিষ্ট অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।